আজ ছাব্বিশে রমজান এবং আজকের রাত পবিত্র কদরের রাত। আজ সারা রাত মুসল্লিগণ ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটাবেন। এই রাতের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয় আমি কদরের রাত্রিতে এই কুরআন নাজিল করেছি। আপনি জানেন কি কদরের রাত্রি কি? কদরের রাত্রি হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। এই রাতে নাজিল হয় ফেরেশতাগণ এবং জীব্রাঈল (আঃ) তাদের পরওয়ারদিগারের আদেশে সর্ববিধ শান্তি ও কল্যাণ সহকারে। উহা বিরাজ করে ফজর পর্যন্ত (সূরা কদর)। সুতরাং, কদরের রাতে কেউ যদি ইবাদত করে তাহলে সে এক হাজার মাস অর্থাৎ ৮৩ বছর ৪ মাসেরও বেশী ইবাদত করার সওয়াব প্রাপ্ত হবে।
কুরআনে এক হাজার বছরের সমান বলা হয়নি, বরং বলা হয়েছে এক হাজার মাস অপেক্ষাও বেশী। আর বেশির পরিমাণও আমরা জানি না, উহা হাজার মাসের চেয়ে কত বেশী উত্তম। এই শবে কদরের তালাশেই হুজুরে আকরাম (সাঃ) রমজানের শেষ দশ দিন নিরবিচ্ছিন্ন ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং মসজিদে নিয়মিত এতেকাফ করতেন। হাদিসে এসেছে যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের নিয়তে কদরের রাত্রি ইবাদতে কাটাবে তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে (বুখারী, মুসলিম)।
যে ব্যক্তি কদরের রাত হতে বঞ্চিত থেকে গেল সে যেন সমস্ত কল্যাণ হতেই বঞ্চিত হল (তারগীব: ইবনে মাজাহ)। অপর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, শবে কদরের রাত্রে হযরত জীব্রাঈল (আঃ) ফেরেশতাদের একটি জামাতের সাথে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং এমন প্রত্যেক বান্দার জন্য রহমতের দোয়া করেন যে দাঁড়িয়ে অথবা বসে আল্লাহর জিকির করে বা ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত থাকে (মেশকাত, বায়হাকী শো’আবুল ঈমান)।
এক হাদিসে হুজুর (সাঃ) এরশাদ করেন, তোমরা শবে কদর তালাশ করিবে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিতে (বুখারী)। কিন্তু শেষ দশকের বেজোড় রাত গুলোর মধ্যে ২৭ রমজানের রাতের কথা হাদিসে বিশেষভাবে উল্লেখ থাকার কারণে এই রাতকেই (২৬ শে রমজান দিবাগত রাত) কদরের রাত হিসাবে ধর্মপ্রাণ মুসলমান পালন করে থাকেন।
হজরত আয়েশা (রাঃ) হুজুর (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রসুলাল্লাহ! আমি যদি শবে কদর পাই তাহলে কি দোয়া করব? হুজুর (সাঃ) এরশাদ করেন, এই দোয়া করিও, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আ’ফুউউন তুহিব্বুল আ’ফওয়া ফা’আফু আ’ন্নী। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনি বড় ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দেন (মেশকাত : তিরমিজী)।
খুলনা গেজেট/এনএম

